Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রকৃতির উপহার ও প্রাকৃতিক সুস্থ থাকা । পর্ব-১।। সুমনা চিসিম

প্রকাশিত : আগস্ট ০১, ২০২০, ১২:০১

প্রকৃতির উপহার ও প্রাকৃতিক সুস্থ থাকা । পর্ব-১।। সুমনা চিসিম

প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ জীব মানব সন্তান আমরা। কিন্তু এই প্রকৃতির কতটুকুই বা জানি? আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রকৃতিতে কত সৌন্দর্য্য, আশ্চর্য্যজনক রহস্যময় অজস্র কত অজানা ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। প্রকৃতির খুব কাছের মানুষ যারা, তারা বন-অরণ্য ও পাহাড়ি আদি মানুষ। এই সব আদি মানুষই আদিবাসী জনগোষ্ঠি। আদিবাসী জনগোষ্ঠি পৃথিবীর সর্বত্রই তাদের নানা বৈচিত্র্যের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রকৃতির কোলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পাহাড় বন-অরণ্য বেষ্টিত পরিবেশে বসবাস করতে আদিবাসীরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কখনও বন-বিহীন জীব-বিহীন জীবন যাপনে অভ্যস্ত নয় তারা।

বাংলাদেশের অধিকাংশ আদিবাসীরাও পাহাড় বন-অরণ্য বেষ্টিত পরিবেশেই বসবাস করতে ভালবাসে এবং তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যও সংগ্রহ হয় বন-অরণ্য থেকেই। বন বাদারের গাছগাছালি দিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ্যও থেকেছে দিনের পর দিন। তাদের এই প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ্য থাকার নানা অজানা কথা আজও লোক মুখে শোনা যায়। আবার বিভিন্ন গবেষণা ও লেখাসমূহে এইসব বিষয়ে জানতে পারি। এমনই ‘A`chikrangni Jakkalgipa Dikgerang’ নামক এক লেখায় Dr. Tharsush K Sangma গারো আদিবাসীরা ‘Dikge’র অর্থাৎ ঔষধি গাছের প্রথম ব্যবহারিক জ্ঞান কিভাবে অর্জন করেছিল এবং কোন্ রোগের জন্য কি ‘Dikge’র ব্যবহার করতো তার বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে দেলং নামে এক গারো যুবক ছিল। সে মানুষ হিসাবে সৎ ও পবিত্র জীবন যাপন করতো। একদিন দেলং গভীর জঙ্গলে একাকি বের হয়। গভীর থেকে গভীর অরণ্যে যেতে থাকে। যেতে যেতে যেখানে এসে থামে সেই অঞ্চল উরশমব রানীর এলাকা। পবিত্র ও পাপহীন দেলংকে Dikge রানির পছন্দ হয়ে গেলো। নিজের বাগানে এই যুবককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভিন্ন ভিন্ন Dikge’র ভিন্ন ভিন্ন কার্যকারীতা ও উপকারিতার কথা এবং তদুপরি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শিখিয়ে দিল। সেই থেকেই নাকি গারো আদিবাসীরা গাছ গাছড়া ব্যবহার করে সুস্থ থাকার কৌশল জেনে যায়। দেলংই প্রথম বনজ ঔষধি ব্যবহার করে এবং পরবর্তীতে বংশানুক্রমে ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তাঁর অনুসারীরা যেসব Dikge’র ব্যবহার করে আসছে ‘A`chikrangni Jakkalgipa Dikgerang’ লেখায় Dr. Tharsush K Sangma  তারই বিশদ বর্ণনা করেছেন। ভবিষ্যতে গারোসহ উত্তর বঙ্গের অন্যান্য আদিবাসীদের ব্যবহৃত এসব বনজ ঔষধি সর্ম্পকে লেখার ইচ্ছা আছে আমার।

এইসব গাছগাছালির ভেষজ গুনাগুন কোন অংশেই কমতি ছিলনা। আজও এই সব ‘Dikge র বা গাছগাছালির ভেষজ গুনের কার্যকারিতার প্রমান মিলে। যেমন গারোরা  তরকারীকে  বলে ‘সাম’, ‘বিজাক’, আবার অনেকে বলে ‘জাবা’। ‘সাম’ অর্থ ঔষধ, ‘বিজাক’ মানে পাতা। আর সবজিকে বলে সামবিজাক ও মিসুসামজাক। ‘সামবিজাক’ মানে ঔষধী পাতা/সবজি আর ‘মিসুসামজাক’ (Me`su samjak)  হলো ঔষধি সবজি অর্থাৎ Me`su অর্থ vegetable আর ‘সামজাক’ অর্থ ঔষধী পাতা। মানুষের দেহ বা শরীরের জন্য‘বিজাক’ বা ‘সামবিজাক’ অত্যন্ত জরুরী। হয়তো এ কারনেই গারোরা বিশ্বাস করে যে, প্রকৃতি থেকে সংগ্রহিত ‘মিসু সামজাক’ বা ‘বিজাকই’ (ঔষধি সবজি বা পাতাই) ‘সাম’ অর্থাৎ ঔষধ হিসাবে প্রতিদিনই খাদ্যাকারে প্রবেশ করে শরীরকে সুস্থ রাখে। তাইতো গারোরা নিমকে ‘সোনা থাংসেক’ বা ‘মুক্তা থাংসেক’ বলে আখ্যায়িত করেছে ।  কেননা নিম শরীরকে সোনা এবং মুক্তার মত উজ্জ্বল ও সতেজ রাখে। ভেষজ বিজ্ঞানী কৃষিবিদ সরওয়ার কামাল তাঁর গবেষণাতেও সবজির ভেষজ গুনাগুনকেই উল্লেখ করে বলেছেন, আলু, ওল কচু, করলা উচ্ছে, কাঁকরোল, কাঁচকলা, গাজর, চালকুমড়ো, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, ধুনধুল, ডুমুর, ঢেড়শ, পটল, বরবটি, বেগুন, মানকচু, মিষ্টি কুমড়ো, মূলা, শশা, সজনে, শিমে এমন কি ব্যাঙের ছাতার মত ২০টি সবজি দিয়ে রাতকানা, রক্তশূন্যতা, মুখে ঘা, পিত্তরোগ, রক্তপিত্ত, প্রসাবের জালাপোড়া, অর্শ ইত্যাদি ১৭৮টি রোগের চিকিৎসা সম্ভব। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, উদ্ভিদমাত্রই ভেষজ। শুধু এর ব্যবহারটাই জানতে হয়। সবজি বেশী পরিমাণ খেলে খাবার আর ঔষধের মাত্রায় খেলে ঔষধি। সবজির ভেষজ গুণ বিচার করে খেলে সুস্থ্য ভাল থাকবে।

কভার ছবি থকবিরিম

চলবে…




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost