Thokbirim | logo

১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গারো বিবাহ : পর্ব-১।। সাংসারেক বিবাহ ।। রেভা. ক্লেমেন্ট রিছিল

প্রকাশিত : জুলাই ৩০, ২০২০, ০৮:৫০

গারো বিবাহ : পর্ব-১।। সাংসারেক বিবাহ ।। রেভা. ক্লেমেন্ট রিছিল

গারো বিবাহ আলোচনা করতে গিয়ে আমি প্রথমেই লক্ষ্য করি বাংলাদেশের গারো খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী, এদের বিবাহ সম্পন্ন হয় খ্রিষ্টান বিধি ও ক্রিয়াকাণ্ডের অনুসরণে এবং প্রায় শতকরা পাঁচজন সাংসারেক, এদের বিবাহ সম্পন্ন হয় সাংসারেক বিধি ও ক্রিয়াকাণ্ডের অনুসরণে। গারো বিবাহ আলোচনা করতে চাইলে উভয় প্রকার বিধি ও ক্রিয়াকাণ্ড আমাদের লক্ষ্য করতে হবে।

সাংসারেক বিবাহ বলতে আমরা বুঝব যে সাংসারেক বিধি ও রীতি অনুসারে সম্পন্ন হয়। রীতির বিভিন্নতা অনুসারে সাংসারেক বিবাহকে রেভা. সি. ডি. বলডুইন চার প্রকার বলে উল্লেখ করেছেন। আমরা এই চার প্রকার বিবাহ একটার পর একটা সংক্ষেপে লক্ষ্য করব।

ক. দো-দক্কা বা দোবুক-নিয়া

খ. টুনাপা- বিবাহ

গ. “দক্-চাপা” বা “অন-চাপা” বা “অন্না- চাপা”

ঘ. “শেক্কা” বিবাহ

ক. দো-দক্কা বা দোবুক-নিয়া

প্রাচীনকাল অবধি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যে সাংসারেক বিবাহ সম্পন্ন হয় এটাকে বলা হয় দো-দক্কা বা দোবুক নিয়া। এই ক্রিয়াকা-ের মধ্যে আবশ্যক হয় একটা বড় মোরগ, তারপর আবার অন্য একটা মোরগ ও মুরগি।

গারো কন্যার পক্ষে বৌ যাওয়াটা বিফল। বরকেই জামাই যেতে হয় কন্যার বাড়িতে। কাজেই বিবাহ সাধারণত সম্পন্ন হয় কন্যার মায়ের বাড়িতে। ঘরের ভিতরে চাটাই বিছানো হয়, তার উপর বর ও কন্যাকে বসানো হয়। খামাল বা কার্যকারী পুরোহিত তাদের সামনে ধান ছিটিয়ে দেন, মোরগ ও মুরগিকে ঐ ছিটানো ধান খেতে দেন। মোরগ ও মুরগি উভয়ই যদি ঐ ধান খেতে থাকে, তখন খামাল বলেন- হে বর ও কন্যে, তোমাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হবে, এই মোরগ ও মুরগির মতই তোমরা মিলে মিশে সমস্ত কাজ কর্ম করতে পারবে, সমস্ত দুঃখ কষ্ট কাটিয়ে উঠতে পারবে।

সাংসারেক বিবাহ রীতিতে খামাল বিবাহ দিচ্ছেন। ছবিতে ওয়ারি নকরেক মারাক এবং তার স্ত্রী কিন্তু মোরগ ও মুরগির একটি যদি ছিটানো ধান খায় এবং অপরটি না খেয়ে গুম হয়ে দাঁড়িয়ে  থাকে, তখন খামাল পরিহাস ছলেই হোক আর বা সত্যিই হোক বলেন- হে বর ও কন্যে, আমি দেখেছি এই বিবাহে তোমাদের একজনের সম্মতি নেই, একই অবস্থায় বিবাহ করলে তোমরা দুইজনে মিলবে না, ঝগড়া-ঝাটি করতে করতেই তোমাদের দাম্পত্য জীবন শেষ করে দেবে। প্রেম-ভালবাসা ছাড়া বিবাহ করলে তোমরা ঝগড়া-ঝাটি করবে, তোমাদের জীবন সুখময় হবে না। প্রেম ভালবাসা থাকলে তবে তোমরা একে অন্যের দোষ-ত্রুটি সহ্য করে সংসার যাত্রা নির্বাহ করতে পারবে, তোমাদের জীবন সুখেই কেটে যাবে। স্বর্গের দেবতারা ও গ্রামের মানুষেরা তোমাদের আশীর্বাদ করছে, তোমরা চ্রা-নকচিক-মানিসারি সকলের সঙ্গে মিলে মিশে চলতে পারলে সুখী দম্পতি হবে পারবে।

অতঃপর খামাল বিবাহ সম্পাদন করেন। কোনো কোনো অঞ্চলে এই সময়ে একটা  নতুন কুলায় ধূপ, ধান ও দুর্বা আনা হয়। খামাল ধুপ দানির অঞ্চলে ধূপ পোড়েন, ধূপ-বাসিত ধান ও দুর্বা নিয়ে বর ও কন্যাকে আশীর্বাদ করেন, দেব-দেবীর নাম উচ্চারণ করেন, পৃথক পৃথকভাবে বর ও কন্যাকে জিজ্ঞাসা করেন এই বিবাহে তাদের সম্মতি আছে কিনা। তারা সম্মতি জানালে খামাল মোরগটি হাতে নিয়ে বরের পিঠে আঘাত করেন, অতপর বুদ্ধ মুষ্টিতে বরের ও কন্যার পিঠে মৃদু আঘাত করেন; বলেন তোমরা এখন অবধি স্বামী ও স্ত্রী হয়ে একত্র বাস করবে, একত্র সংসার করবে, একত্র সন্তান পালন করবে। অতঃপর মোরগ ও মুরগি কাষ্ঠ খণ্ডের আঘাতে বধ করেন। তখন বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই প্রকার বিবাহ সম্পাদনকে বলা হয় ‘‘দো-দক্কা”। “দো” মানে মোরগ বা মুরগি, এবং ‘দক্কা’ মানে আঘাত করা বা বধ করা। মোরগ ও মুরগি দিয়ে বর ও কন্যাকে আঘাত করা হয়, তারপর ঐগুলি বধ করা হয়, তাই ক্রিয়াকা-কে “দো-দক্কা” বলে অভিহিত করা হয়।

এই ক্রিয়াকাণ্ডের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ক্রিয়াটি হল মোরগ ও মুরগি দিয়ে বর ও কন্যাকে আঘাত করা ও পরে ঐগুলি বধ করা। কোনো কোনো অঞ্চলে ধূপ, ধান ও দুর্বার ক্রিয়াটি সম্পাদন হয় না। পূর্বকালে যখন জামাইকে জোরপূর্বক ধরে আনা হত, তখন সম্মতি জিজ্ঞাসার প্রয়োজন হতো না। বর্তমানকালেও যখন তাড়াহুড়ার মধ্যে “দো-দক্কা”অনুষ্ঠিত হয় তখন সম্মতি জিজ্ঞাসার ক্রিয়াটি বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু “দো-দক্কা”ক্রিয়াটি অবশ্যই থাকে, ঐ ক্রিয়া ছাড়া বিবাহ সম্পাদিত হয় না। সাধারণত “দো-দক্কা” বললে বর্ণিত সম্পূর্ণ ক্রিয়াকা-টিকে বোঝায়।

অতঃপর নব দম্পতির ভবিষ্যৎ জীবন কী শুভ হবে, কী অশুভ হবে তা খামাল নির্ণয় করেন একটি ক্রিয়ার মাধ্যমে যাকে বলা হয় “দো-বুক” মানে মোরগের অন্ত্র এবং “নিয়া” মানে দেখা। তাই “দো-দক্কা” বিবাহের জন্য একটা নাম “দো-বুক-নিয়া’।

“দো-বুক-নিয়া” ক্রিয়াটি এইরূপ। খামাল বড় মোরগটি গ্রহণ করেন, মাথায় কাঠির আঘাত করে ঐটাকে বধ করেন, বা মাথা ধরে ঘাড় মুষড়িয়ে ঐটাকে বধ করেন, দা বা বঁটি দিয়ে ঐটার পেট কেটে আঙুল দিয়ে বৃহৎ অন্ত্রটি বের করেন, অন্ত্রের অগ্রভাগগুলি পরীক্ষা করেন। ঐগুলি যদি সমান হয় ও একত্র যুক্ত থাকে তবে বোঝায় নব দম্পতির ভবিষ্যত সুস্থময় হবে এবং অগ্রভাগগুলি যদি অসমান হয় ও বিযুক্ত থাকে তবে বোঝায় নব দম্পত্তির ভবিষ্যত সুখময় হবে না। তখন খামাল সাবধান বাণী উচ্চারণ করেন, উপদেশ দেন গ্রামের ও সমাজের লোকদের সঙ্গে কী প্রকার ব্যবহার করলে জীবনকে আনন্দে ও শান্তিতে পূর্ণ করা যায়, বাড়ির লোকদের সঙ্গে কী প্রকার ব্যবহার করলে পারিবারিক জীবনকে মধুময় ও সুখময় করা যায়।

খ. টুনাপা- বিবাহ

সাংসারেক রীতির দ্বিতীয় প্রকার বিবাহকে বলা হয় ‘টুনাপা’। বাংলায় বলা যায় বাসর বিবাহ বা গান্ধার্ব বিবাহ। এই রীতিতে বর ও কন্যা স্বতঃস্ফুর্ত হয়ে বিবাহ করে, অভিভাবকেরা বিবাহের বন্দোবস্ত করেন না। সাধারণত অপর পক্ষের অভিভাবকদের অনুমতি বা অনুমোদন ছাড়া শুধু এক পক্ষের অভিভাবকদের অনুমোদনেই এই প্রকার বিবাহ হয়; বা উভয় অনুমোদন ছাড়া শুধু এক পক্ষের অভিভাবকদের গোপন অনুমোদনেও এই প্রকার বিবাহ হতে পারে; বা উভয় পক্ষের অভিভাবকদের অনুমোদন  ছাড়াও এই প্রকার বিবাহ হতে পারে। পুরুষ বা কন্যা যাকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক রাত্রিযোগে তার শয্যায় গিয়ে তার সঙ্গে শয়ন করে ও যৌন সংসর্গ করে, তখনই এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। তখন বিবাহ সম্পন্ন হয়ে থাকলেও তা উভয় পক্ষের চ্রা-নকচিক-মানকের প্রকাশ্য অনুমোদন সাপেক্ষ। অনুমোদন পাওয়া গেলে সমাজের জন্য ভোজ দিতে হয়। অনুমোদন  পাওয়া না গেলে এই বিবাহ ভেঙে দেওয়া হয়। যদি এক পক্ষ বিবাহিত হয়ে থাকে, তবে ঐ টু-নাপাকে ‘শেক্কা’ বিহাহের মধ্যে গণ্য করতে হয়, এবং তার  মীমাংসা হবে ‘শক্কা’ বিবাহের মীমাংসার জন্য প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী।

গ. “দক্-চাপা” বা “অন-চাপা” বা “অন্না- চাপা”

এই প্রকার বিবাহকে প্রকৃতপক্ষে সপত্নী গ্রহণ বালা যায়। এই প্রথা অনুযায়ী একজন পুরুষ একজন বৃদ্ধকে ও একজন যুবতীকে এক সঙ্গে বিবাহ করে। প্রায় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধটি যুবতীর মা হয়ে থাকে। যৌন সংসর্গে মাতা ও কন্যা। উভয়েরই সমান অধিকার থাকে। বৃদ্ধা পত্নীই অবশ্য পরিবারের কর্ত্রী ও সম্পত্তির অধিকারিণী হয়। বৃদ্ধা পত্নীর মৃত্যু হলে পর সম্পত্তি কন্যা সপত্নীর অধিকারগত হয়। অন্য এক প্রকারের সপত্নী গ্রহণ আছে, এই প্রথাকে “নক্না-রাআ” বলা হয়। এই প্রথায় বৃদ্ধা পত্নী যদি নি:সন্তানা হয় বা স্বামী অপেক্ষা অধিক বয়স্ক হয়, তাহলে তাহার স্বামী একজন যুবতী পত্নী গ্রহণ করে। বৃদ্ধার মৃত্য হলে যুবতী পত্নীটি সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হয়। কিন্তু বৃদ্ধা পত্নীর মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত যুবতী পত্নী কোনো প্রকার সম্পত্তির অধিকারিণী হয় না, এবং তাকে সমস্ত পারিবারিক কাজকর্ম করতে হয়। যদি উভয় পত্নীরই মৃত্যু হয় তাহলে মৃত পত্নীদের মাহারি বিপত্নীকেই “দক্-চাপা” বা “অন্-চাপা” বা “অন্না-চাপা” বলা হয়ে থাক।

ঘ. “শেক্কা” বিবাহ

সাংসারেক বিবাহের চতুর্থ রীতিকে বলা হয় “শেক্কা”। পুরুষ ও স্ত্রী পতি ও পত্নীরূপে এই বসবাস করতে পরস্পর সম্মত হয় গোপনে অন্যত্র চলে যায় বা দেশান্তরী হয়। তাই এই রীতির বিবাহকে অভিসার বিবাহ বলা চলে। ইংরেজিতে এইটাকে বলা হয় elopement।

অভিসারের মাধ্যমে যারা মিলিত হল তারা যদি উভয়েই অবিবাহিত হয়ে থাকে তবে আখিমের প্রশ্ন উঠে না, তাদের মিলন সহজে সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করতে পারে। তখন ঐটাকে বিবাহ বলেই গণ্য করা হয়। কিন্তু চ্রা-নক্চিক-মানক ঐ বিবাহে অসম্মত হলে তারা অভিসারক ও অভিসারিকাকে বলপূর্বক পৃথক করে থাকে।

এমন হতে পারে যে, এক পক্ষ বিবাহিত ও অন্যপক্ষ অবিবাহিত। তখন “শেক্কা” সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করুক বা না করুক, অবিবাহিত পক্ষের মাহারি জরিমানা দিতে বাধ্য হয় বিবাহিতের স্ত্রী বা স্বামীর মাহারিকে। বিবাহকে সামাজিক স্বীকৃতির মর্যাদা দিতে চাইলে ঐ দুইটি জরিমানাই হবে পূর্ণ জরিমানা। কিন্তু অবিবাহিতের মাহারি ঐ “শেক্কাকে” অস্বীকার করলে, “শেক্কার” অপরাধের জন্য ঐ মাহারি অর্ধেক জরিমানা দিতে বাধ্য হয়; বিবাহিতের স্ত্রী বা স্বামীর মাহারিকে, এবং বিবাহিতের মাহারিও অর্ধেক জরিমানা দিতে বাধ্য হয় ঐ স্ত্রী বা স্বামীর মাহারিকে। তখন বিবাহিত পক্ষ তা স্ত্রী বা স্বামীর নিকট ফিরে যায়।

এমনও হতে পারে যে উভয় পক্ষই বিবাহিত। তখন উভয় পক্ষের মাহারিই দ্বিগুণ জরিমানা দিতে বাধ্য থাকে, ঐ “শেক্কা” বিবাহ শেষ পর্যন্ত সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করুক বা না করুক। যেমন উল্লিখিত হয়েছে, জরিমানা দুই প্রকারের আছে; একটি হল পূর্ণ জরিমানা বা পুরা দায়, এবং অপরটি হল অর্ধেক জরিমানা বা আধা দায়। প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পুরা দায় হল ষাট টাকা  তিনখানা কাঁসর; এবং আধা দায় হল ত্রিশ টাকা। বাংলাদেশ হওয়ার পর মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে, মুদ্রার মূল্য হ্রাস পেয়েছে, দ্রব্যমূল্য তাই অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে পুরো দায়ের পরিমাণ করা হয়েছে দুইশত টাকা, এবং আধা দায়ের পরিমাণ করা হয়েছে একশত। তবে এই নতুন প্রচলিত জরিমানার পরিমাণ সর্বত্র সমান নহে, বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন হয়ে উঠেছে। বোধহয় পুরা দায়কে দুইশত টাকা এবং আধা দায়কে একশত টাকা করার রীতিটাই বেশির ভাগ অঞ্চলে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

মনে করুন এখন “শেক্কা” কর্মকে উভয় পক্ষের মাহারিবর্গ বিবাহের মর্যাদা দিতে চায়। মনে করুন অভিসারক ¤্রং এবং তার স্ত্রী রিছিল। মনে করুন অভিসারিকা চাম্বুগং এবং তার স্বামী টিগিদী। তাহলে ¤্রং মাহারি পুরা দায় দেবে রিছিল মাহারিকে, আর একটি পুরা দায় দেবে টিগিদী মাহারিকে। তদ্রুপ চাম্বুগং মাহারিও পুরা দায় দেবে টিগিদী মাহারিকে, এবং অন্য একটি পুরা দায় দেবে রিছিল মাহারিকে। এইভাবে অভিসারকের মাহারি দ্বিগুণ জরিমানা দিতে বাধ্য হয়, এবং অভিসারিক মাহারিও দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হয়। এইরূপে পুরা দায় দিয়ে মীমাংসা হয়ে গেলে পর অভিসারক ও অভিসারিকা স্বামী স্ত্রীরূপে বসবাস করতে পারে।

মনে করুন মাহারিবর্গ উক্ত “শেক্কা” কর্মকে বিবাহের মর্যাদা দিতে চাইল না। তবু অভিসারক ও অভিসারিকার মাহারিদ্বয় প্রত্যেকেই দ্বিগুণ জরিমানা দিতে বাধ্য প্রতারিত মাহারিদ্বয়কে, তবে তখন চারটি জরিমানার প্রত্যেকটিই হবে আধা দায় মাত্র। এইরূপে আধা দায় দিয়ে মীমাংসা হয়ে গেলে পর অভিসারাক তার পূর্ব পতœীর নিকট ফিরে যায় এবং অভিসারিকার তার পূর্ব স্বামীর নিকট ফিরে যায়।

‘টু-নাপা” ও “শেক্কা”  এই দুইটির মধ্যে কী প্রকারের পার্থক্য আছে? পার্থক্য এই যে, “টু-নাপা” হয়ে থাকে কন্যার বাড়িতে বা বরের বাড়িতে বা কোনো এক নক্-পান্থির মধ্যে। কিন্তু “শেক্কা” যারা করে তারা বাড়ি ও গ্রাম ছেড়ে দূরে পালিয়ে গিয়ে একত্র বাস করতে আরম্ভ করে। নিজ গ্রামের ও নিজ মাহারির সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করার আশা বা সম্ভাবনা না থাকলে দূর দেশেই স্বামী-স্ত্রীরূপে বসবাস করে থাকে।

কৃতজ্ঞতা : লেখকের স্ত্রী ঝর্না মান্দা এবং ‘জানিরা’ পত্রিকা। ‘গারো বিবাহ’ পাণ্ডুলিপিটি থকবিরিম প্রকাশনী থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

কভার ছবি : সাংসারেক বিবাহের ছবি ওয়ারি নকরেক মারাক, সংগ্রহ।

রেভা. ক্লেমেন্ট রিছিল

রেভা. ক্লেমেন্ট রিছিল

রেভা ক্লেমেন্ট রিছিল ১৯১৭ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার রাংড়াপাড়া গ্রামের এক রিছিল পরিবারে। মেট্রিক পাস করেন ঢাকাস্থ বান্দুরা স্কুল থেকে ১৯৩৭ সালে এবং প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স পাস করেন ১৯৫২ সালে।
তিনি ১৯৫৫ সালে যাজকীয় জীবনে প্রবেশ করেন এবং ঢাকাস্থ বান্দুরা মিশনে যাজকীয় কতর্ব্য পালনের পাশাপাশি শিক্ষকতাও করতেন। লেখক ১৯৭৫ সালে সুসং কলেজে ইংলিশের অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। এই কলেজে তিনি মাত্র একবছর চাকরি করেন। রেভা. ক্লেমেন্ট রিছিল লেখক হিসেবে যেমন তেমনি শিক্ষক হিসাবেও সুশিক্ষক ছিলেন এবং বেশ সুনাম অর্জন করেন। ক্লেমেন্ট রিছিল বহু ধর্মীয়, ইতিহাস, প্রবন্ধের বই লিখে গেছেন। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থ : খ্রিষ্টীয় মণ্ডলীর ইতিহাস ১ম, ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ খণ্ড, নতুন নিয়ম পরিচিতি, পুরাতন নিয়ম পরিচিতি, হিন্দু ধর্মের ইতিহাস ১ম, ২য়, ৩য় খণ্ড, হিব্রু ইতিহাস, ‘গারো আইন’ অনুবাদ গ্রন্থ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
লেখকের মৃত্যু হয় ২০০৯ সালের ৩রা ডিসেম্বর পূর্ব উৎরাইল গ্রামে।

 

আরো খবর

সংস্কৃতি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানার প্রয়োজনীয়তা  ।। পর্ব-১ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

সংস্কৃতি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানার প্রয়োজনীয়তা  ।। পর্ব-২ ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

পালাগান ‘সেরেজিং’ ।। পর্ব-৭ ।।মতেন্দ্র মানখিন

গারো অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের আগমন  ।।  শেষ পর্ব ।। মণীন্দ্রনাথ মারাক

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x