Thokbirim | logo

১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৯শে নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

ওয়ানগালায় জাতিয়তাবোধ চলে আসে, স্বকীয়তা চলে আসে ।। লুদিয়া রুমা সাংমা

প্রকাশিত : জুলাই ২৯, ২০২০, ০৯:৫৭

ওয়ানগালায় জাতিয়তাবোধ চলে আসে, স্বকীয়তা চলে আসে ।। লুদিয়া রুমা সাংমা

লুদিয়া রুমা সাংমার সাথে কথা হয় ২০১৯-এর সিমসাং আসং ওয়ানগালায় সিমসাং নদীর তীরে। কথা হয় নানা বিষয় নিয়ে। সেই আলাপের বিশেষ অংশ থকবিরিম পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো- সম্পাদক।

লুদিয়া রুমা সাংমা সিমসাং আসং ওয়ানগালার (বিরিশিরি) বর্তমান নকমা। তিনি YWCA সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। লুদিয়া রুমা সাংমার জন্ম ১৯৬২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। বাবার নাম সত্যানন্দ স্কু মাতা স্নেহলতা সাংমা (দাওয়া)। দুই ভাই দুই বোন। স্বামী স্বর্গত ডেভিড অনুপ সাংমা। রয়েছে এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে স্কলারশিপ নিয়ে কোরিয়াতে আছে। মেয়ে এলএলএম পাশ করে এখন বারকাউন্সিলে পরীক্ষা দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে । লুদিয়া রুমা সাংমা বিরিশিরি মিশন গার্লস হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেছেন। টাঙ্গাইল কুমুদিনী কলেজ থেকে ইন্টার এরপর ঢাকা সিটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পড়েছেন। কাজের শুরুতে তিনি ওর্য়াল্ডভিশনে কিছুদিন ভলানটিয়ার সার্ভিস দিয়েছেন। তারপর ১৯৯৩ থেকে YWCA বিরিশিতে কাজ শুরু করে অদ্যাবধি কাজ করে যাচ্ছেন।

YWCA কাজ…

YWCA কাজের সুবাদে সুযোগ হচ্ছে নারীদের নিয়ে কাজ করার। বিশেষ করে এখানে সামাজিকতা বলি রাজনীতি বলি  দেশের জন্য  কাজ করা বলি সমাজের জন্য কাজ করা বলি… কাজ করার অনেক অপসন আছে। সুযোগ আছে। এখানে  শুধু গারো না, জাতি-ধর্ম-বর্ণ সবার সাথে কাজ করা যায়, মেশা যায়। এটা হচ্ছে  ভলান্টিয়ার অর্গানাইজাসন।  আর এখানে কীভাবে ভলানটিয়ারদের মোটিভেসন করা যায় বা প্রয়োজন  বিশেষভাবে যুবতীদের লিডারশিপে নিয়ে আসার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ…এটা অনেক বড় একটা বিষয়।

এখানে শুধু মেয়েদের সাথে কাজ করি তা না, ছেলেদের সাথেও কাজ করি। কিন্তু মেয়েদের লিডারশিপে নিয়ে আসার দায়িত্ব কিন্তু YWCA পালন করছে। এভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, তাদের হেলথ বিষয়ক অনেক অনেক তট দেই, তাদেরকে নিয়ে ক্লাব গঠন করি, তাদেরকে নিয়ে হেলথ সম্পর্কে কথা বলি শিক্ষা দেই। এমন কি সমাজে কীভাবে কাজ করতে হয় সেটাও তারা জানে। এভাবে আমরা মটিভেট করি।

তাদের জন্য আমরা সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে, যৌন প্রজনন সম্পর্কে, ব্রেস্টক্যান্সার সম্পর্কে,  নারী অধিকারের উপর, পরিবেশের উপর সেমিনার করিয়েছি। এছাড়াও অনেক অনেক বিষয়ে সেমিনার করেছি।

শুধু এটাই না কীভাবে সভা পরিচালনা করতে হয়, কথা বলতে হয়  কীভাবে ট্রেনিং পরিচালনা করতে হয় সেটাও আমরা শিক্ষা দিয়ে থাকি।

নকমা নির্বাচিত সম্পর্কে…

এটা অনেক বড় দায়িত্ব। এটা কিন্তু একটা সামাজিকতা। সামাজিক কাজ। তার মানে গারোদের যে নিজস্বতা আছে… এখানে ডুবে যাওয়া এটাতে আরো বেশি  সম্পৃক্ত হওয়ার  সুযোগ আমি পেলাম। যেমন অফিসিয়ালি আমি যখন কাজ করি আরও সুযোগ থাকে… আমাদের পাড়ায় পাড়ায় কিন্তু লিডার আছে।  আমরা সেটাই টার্গেট করেছি।  আমি কিন্তু এখনও সিমসাং ওয়ানগালা কমিটির সদস্য। আমরা  সবাই আলোচনার করেছি কীভাবে এটাকে ফ্রুটফুল করা যায়। আমরা প্রত্যেক পাড়ার লিডারদের সাথে বসে  আলাপ করেছি। কীভবে এক সাথে করতে পারি।

আমরা বড়দিনে আলাদা আলাদা প্রীতি ভোজ করি কিন্তু এটা কিন্তু একসাথে হচ্ছে। সব কিছু কম্বাইন্ডে হচ্ছে। আমরা কিন্তু একেকজন একেক চার্চে যাই। কিন্তু ওয়ানগালা এমন একটা মঞ্চ সবাই এক সাথে, এখানে আমরা সবাই গারো! জাতিয়তাবোধ চলে আসে, নিজস্বতা, নিজের স্বকীয়তা চলে আসে।

ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার্থে গারো নারীদের ভূমিকা…

আমাদের ছেলেমেয়েরা সংস্কৃতি বললে নাচ আর গানই বুঝে। কিন্তু পড়াশুনাটা বেশি করে বলে মনে হয় না। পড়াশুনা করা, সংস্কৃতি বিষয়ক পড়ার চেষ্টা করা দরকার। ভাষা- সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য তাদেরকে বলতে হবে এটা করো ওটা করো এভাবে হবে না। হয় না।  কিন্তু এই যে  নাচ গানের মধ্য দিয়েই তাদের একত্রিকরণ, এভাবেই করতে হবে। গারো গানে উদ্বুদ্ধ এটাও কম না, তারা কিন্তু হিন্দি গান গায়, বাংলা গান গায়। এই যে তারা ওয়ানগালায় গারো গান গাচ্ছে- নাচছে এটাও আমাদের দেখতে হবে।

সিমসাং ওয়ানগালায় মান্দি যুবকযুবতীদের নাচ

তারা বুঝতে পারছে ওয়ানগালায় শুধু গারো গানই গাইতে হবে এটাও কিন্তু সচেতনতার লক্ষণ। আর পোশাক। সবাই কিন্তু দকমান্দা পরে এসেছে।  আমাদের YWCAতে এক সময় এমনও হয়েছে আমাদের শাড়ি পরা বাদ আমরা দকমান্দা পরা শুরু করেছি।

বর্তমান সময়ে গারোদের মধ্যে বাল্য বিবাহ…

নাই যে এমন না!  আমার মনে হয় গ্রামে বাল্য বিবাহ আছে তবে বেশি না! আবার মাঝে মাঝে এটাও মনে হয়, হয় আমাদের বাল্য বিবাহ বেশি হয় নয় বেশি বয়সে বিবাহ হয়। পড়া লেখা শেষ করে চাকরি করতে করতে বয়স বেশি হয়ে যায়। আমার চোখে দেখা বেশ কয়েকটা বাল্য বিবাহ! এটার জন্য শিক্ষাটাও দায়ী। কেউ যদি এইট ফেল করে কিংবা টেস্টে এলাউ না হয় তাহলে তারা আর পড়ে না। এই ধরনেরও আছে।  তবে ইদানিং অনেকটা সচেতন হচ্ছে। কারণ আমাদের এলাকাতেই কলেজ রয়েছে। আর কলেজ থাকার কারণে দিন মজুরি করে তাদের সন্তানও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেকটা স্বচ্ছল। আমার মনে হয়, না খেয়ে কেউ থাকে না। আগে যেমন না খেয়েও অনেকে থাকতো। অনেক ক্রাইসিস থাকতো। বর্তমানে সেটা অনেকটা নাই। ছেলেমেয়েরাও টিউশনি করে মা বাবাকে সহায়তা করে, নিজের পড়ার খরচ চালায়।

যুবক-যুবতীদের জন্য…

YWCA তে আমরা অনেক ব্লক বাটিকের উপর, সেলাইয়ের উপর, বিভিন্ন ধরনের পিঠার উপর ট্রেনিং দিয়ে থাকি। তারা ঘরে বসেই উদ্যোক্তা হতে পারে। ট্রেনিংয়ের পর আমরা তাদের কিছু দিয়ে হেল্প করি। আমাদের কিন্তু সঞ্চয় করতে হবে, সঞ্চয়ের মনোভাব খুব জরুরি! আমাদের সঞ্চয়ের মনোভাব নাই। কিন্তু থাকতে হবে। আর আমি বেশি করে বলতে চাই মাদকতা পরিহার করতে হবে। মাদক মানুষের চিন্তা ভাবনার প্রসারতার ক্ষয় করে। ভাল চিন্তা করতে পারে না। নিজেকে সংযত করতে হবে।  একবার ট্রেনিং চালাচ্ছিলাম। সেই সময় ছেলেরা আমাকে বলল, আজং মেয়েরা আমাদের পছন্দই করে না। ছেলেদের কথা শুনে মেয়েরাই বলল- আজং তারা তো গিদর! তারা পড়ে না,  তারা চু খায়, ঠিকমত পড়ে না, তারা অপরিস্কার!

তখন আমি তাদের বললাম- তাহলে দেখো আমার বলার দরকার পড়লো না। তারমানে মেয়েরা পড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন তারা তো চাইবেই তাদের সমকক্ষকে বিয়ে করতে, বন্ধুত্ব করতে। তোমরা সম্পর্ক রাখো… ফোন করো, ফেসবুকে মেসেজ দাও, চিঠি লিখো… চিঠি লিখতে খুব মজা! বিশেষ করে  প্রেমের চিঠি লিখতে… তোমরা পড়ো. পড়ে নিজেকে আগে গড়ো, চাকরি করো তারপর বিয়ে করো। দেখো সংসার কী মজা!

প্রেমের চিঠি…

আমি নিজেও প্রেমের চিঠি লিখেছি! আমি তাদের বলেছি…  আমার বিয়ে প্রেমের বিয়ে ছিলো। কারণ একজন আরেকজনকে বুঝতে হয়, জানতে হয়! হঠাৎ করে তো একজন আরেকজনকে নিতে পারে না!

আরো সাক্ষাৎকার :

ট্রাফিক হলো একটা কমনসেন্স-এর বিষয়- সার্জেন্ট লিমা চিসিম

দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিতামূলক নিউজপোর্টালের উপর মানুষ নির্ভর করবে।। নিখিল মানখিন

জীবন সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে।।প্রলয় চিসিম

বাংলা একাডেমির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে  আদিবাসী লেখকদেরকে সুযোগ দেয়া উচিত । । বাঁধন আরেংধন

https://www.facebook.com/thokbirim/videos/1163701897348748

সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।

Gepostet von Thokbirimnews.com am Mittwoch, 16. September 2020

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost