Thokbirim | logo

১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মান্দি নারী উদ্যোক্তাদের বেচাবিক্রি মধু কিংবা ওয়াক জাবা

প্রকাশিত : জুলাই ২৬, ২০২০, ০০:০৫

মান্দি নারী উদ্যোক্তাদের বেচাবিক্রি মধু কিংবা ওয়াক জাবা

বিশ্বাসই করতে পারি নাই তুলনামূলক কম দামে কালিজিরা মধু পেয়ে যাবো। প্রথমে মনে হচ্ছিল কালিজিরা মধুর দাম নাগালের বাইরে হবে কিন্তু দামটা শোনার পর মনে হলো-না ঠিকই আছে। তারপর ১ লিটারের টাকায় কালিজিরা ও সরিষার মধু নিলাম  আধাআধি।

এই করোনাকালে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে গেছে মধু দিয়ে লেবুর শরবত খাওয়া। সেই অভ্যাসটা আমরা গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত বয়ে নিয়ে গেলাম। যখন গ্রামে গেলাম তখন সঙ্গে করে মধু(খলিসা) নিয়ে গেলাম। মনে হতে পারে বেশি বেশি আসলে মধু আর লেবু কুসুম গরম জলে শরবত খাবার সুফলটা দেখতে পেলাম এই ৩/৪মাস করোনাকালে আমরা কেউই একদিনের জন্য হলেও ঠান্ডা বা কাশি কিংবা জ্বরে আক্রান্ত হইনি। এটা মনে হয়েছে আমরা নিয়ম করে প্রতিদিন সকাল বিকাল লেবু মধু গরম জলের শরবত খেয়েছি বলে।

মধুমেলা-চাষবাস-মাহতাফ শফি-আঁখি সিদ্দিকা-মিম শস্যভাণ্ডার থেকে মধু সংগ্রহ করেছি। সবারই ভালো মধু। আমি আসলে এখানে বলতে চাই তন্নী চিসিম কিংবা প্রণিতা রাকসামের কথা কিংবা অন্য আরেক গারো বোন কিংবা ভাইয়ের কথা।

এই ঢাকা শহরে মুখে মুখে আলাপ হতো যদি কেউ ওয়াক ফুরা বিক্রি করতো কিংবা নাখাম বিক্রি করতো, কুৎচিয়া পাওয়া যেতো তাহলে কতই না ভালো হতো। ধীরে ধীরে তাই হলো। কিন্তু ওয়াক ফুরা মেয়া/মি’আ  এটা কিন্তু বাকি ছিলো। এখন তাও পাওয়া যাচ্ছে!

কে ভাবতে পেরেছে ঢাকা শহরে গারো নারী ওয়াকফুরা রান্না করে ডেলিভারি দিবে? কিংবা দকমান্দা বিক্রি করবে? তাদের কাছে দকমান্দা কিংবা মধু কিংবা শূকরের মাংসের খাবার আশা করি নাই। কিন্তু পেয়ে গেছি। এটাই বিস্ময়! এই জায়গাটায় তাদের সফলতা।

আমাদের নারীরা যে নানাক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এটা তারই লক্ষণ। তাদের সাধুবাদ জানাই। দুহাত জোরে নমস্কার!

কয়েকদিন ধরে মাতগ্রিক নামের একটি গ্রুপ হয়েছে ফেসবুকে। সেই গ্রুপে দেখি সবাই উদ্যোক্তা! এটা নিঃসন্দেহে ভালো লক্ষণ! দেখতেও ভালো লাগছে। কে কী করতে চায় কিংবা ঘরে বসে কে কী করছে বুঝা যাচ্ছে-দেখা যাচ্ছে। এটা আশা জাগায়। এই করোনাকালে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়।

কেন আমরা গৃহকর্মী ডেলিভারির তালিকায় নাম লেখাবো? গৃহকর্মীর কাজ সম্মানের কিন্তু একটি সম্প্রদায়ের নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন অন্যায়! আমরা সেটার প্রতিবাদ করি! এখন মাতগ্রিকে বিভিন্নজনের কাজ দেখে বলতে পারি বিজ্ঞাপনওয়ালা এজেন্সিদের এটাই দেখিয়ে দেবার সময় গারো নারীরা কী কী পারে আর কী কী করে।

মাতগ্রিকের মাধ্যমে আমি যে দুজনের কাছে জিনিস নিয়েছি তাদের কাজও ভালো। খেয়ে বা টেস্ট করে মনে হচ্ছে মধুর মানও ভালো দামও হাতের কাছে আবার ওয়াক-ফুরার রান্নার মান তো সেই আদি গ্রামীন স্বাদ! যেটা ধরে রাখতে পারলে একদিন হন্নে হয়ে খোঁজবে মানুষ! একদম খাঁটি গারো স্বাদের। এটা এই ঢাকা শহরে বাসায় বসে খেতে পারছি কিংবা ভাবতে পারছি এটাই তো বিশাল! এটাই স্বপ্ন পূরণ!

আগে জাবাতে খেতে যেতাম। আমরা ভালো মন্দ আলাপ করতাম। এখন কাজের লোক বাড়ছে, সাপ্লাইয়ের লোক বাড়ছে তার মানে মানও বাড়ছে।

এখানে একটা কথা যার মান ভালো হবে না তার কিন্তু চলবে না। কিংবা ভুজুংভাজুং করে সে কিন্তু টিকতে পারবে না। এটা বুঝা যাচ্ছে স্পষ্ট। ফলে যে যে কাজটিই করুক তাকে ভালো করতে হচ্ছে, মান দেখতে হচ্ছে। হোক সে দুদিনের জন্য এসেছে কিন্তু দুদিনের জন্য করতে এসে সারা জীবনের কলঙ্ক বহন করতে কে চাইবে?

মানুষ এমন একটু খুঁত পেলে সারা জীবন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলে বেড়াবে কিংবা যেখানে যাবে প্রসঙ্গক্রমে বলতেই থাকবে। আর এখন তো ফেসবুক-টুইটারের সময়। স্ক্রিনশট দিয়ে বলবে-অমুকের রান্নায় ঝাল বেশি, খারি কম, কুচিয়া খালটিংয়া, তমুকের শাড়ির রং যায়, গেঞ্জির ফুটা আছে, এই সেই। ফলে যারা কাজ করতে আসছে ইতোমধ্যে করা শুরু করেছে তাদের খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সে যেই হোন।

তবে আশা বেঁধে রাখি। করোনাকে জয় করবোই আর মান্দি নারী উদ্যোক্তাদেরও জিত আসবেই! অগ্রিম লাল সালাম!

।। মিঠুন রাকসাম

আরো লেখা

করোনাকালে কেমন আছেন লেখক বাঁধন আরেং

করোনাকালে কেমন আছেন কবি ফিডেল ডি. সাংমা

করোনাকালে কেমন আছেন কবি জেমস জর্নেশ চিরান

করোনাকালে কেমন আছেন কবি পরাগ রিছিল

করোনাকালে কেমন আছেন কবি জর্জ নীলু রুরাম




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost