Thokbirim | logo

২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গারো উপজাতি গৃহকর্মী ২৪ঘণ্টায় ডেলিভারি এবং পরসমাচার ।। জাজ্রিং মারাক

প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০২০, ১৭:০৪

গারো উপজাতি গৃহকর্মী ২৪ঘণ্টায় ডেলিভারি এবং পরসমাচার ।। জাজ্রিং মারাক

গারো উপজাতি না জাতি?  এই তর্কটা কে করে? কিংবা সরকারি ভাষায় ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী নিয়ে কে জাবর কাটে? মনে হয় না গারো সম্প্রদায়ের লোকজন এ বিষটি নিয়ে খুব গভীরভাবে ভাবে বা চিন্তা করে। ভাবা বা চিন্তা না করার কারণ হিসেবে বলা যায় গারো সম্প্রদায় নিজেদের মান্দি জাতি গোষ্ঠী কিংবা আচিক মান্দি এই সত্যটাই বুকে ধারণ করে আছে শতকবর্ষ ধরে। ফলে কে কী উপাধি দিলো বা ভাবলো সেই চিন্তা করার ফুসরতটুকু তারা করতে চায় না। যদিও কিছু সুবিধাবাদী কিংবা যা করলেই নয় সেই হিসেবে সরকারি তকমা মাথায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী যেখানে উপজাতি কিংবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে তাচ্ছিল্য কিংবা সহানুভূতি দেখাচ্ছে সেখানে গারো সম্প্রদায় নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে এই তকমা গায়ে না মেখে পার করে দিচ্ছে দিনের পর দিন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। নিজেদের মান্দিসত্তাটুকু পরিচয় দিতে দ্বিধাসংকোচহীনভাবে প্রথম সাক্ষাতেই  জানান দিচ্ছে  তার ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, আলাদা তার দেহের গড়ন, চলন-বলন। বুকে ধারণ করে আছে হাজার বছরের মান্দি জাতিসত্তার ইতিহাস।

করোনাকাল ও গারো সম্প্রদায়

‘গারো উপজাতি গৃহকর্মী’ বুকিং দিলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি! একজন গারো নারীর ছবিসহ একটি এজেন্সির পেজ প্রায় সবার ওয়ালে ওয়ালে ভাসছে। এই বিষয়টা নিয়ে পত্রিকাতেও নিউজ হয়েছে পড়লাম। কিন্তু যতবার দেখছি ততবারই মনে নানা প্রশ্ন উকি দিচ্ছে! এখন যে প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুমপাক খাচ্ছে সেগুলো বলেই ফেলি।

এই যে গারোদেরকে উপাজাতি বলা হচ্ছে বা তকমা লাগিয়ে তাদের বিক্রি করার চেষ্টা করছে  গারো সম্প্রদায় কি সেই তকমা গায়ে লাগাচ্ছে কিংবা মেনে নিচ্ছে? নাকি এটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বর্থ হাসিলের হাতিয়ার মাত্র?  গারোদেরকে  উপজাতি আখ্যা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি দিতে চাচ্ছে  তারা(গারো/মান্দি) কি কোনো মাল মানে বস্তু শ্রেণির?  যাদের  এদেশে ফার্ম-এর মুরগির মতো উৎপাদন হচ্ছে শয়ে শয়ে! যাদের সকাল-বিকাল সন্ধ্যা-রাত ধরে ধরে, প্যাকেতজাত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাপ্লাই দেয়া মানে ডেলিভারি দেয়া যায়।  তাও আবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে?

পেজটি দেখে তাই মনে এলো-পুকুরের মাছ কিংবা হাতের তৈরি বিষমুক্ত খাবারের মতো গারো উপজাতিও অর্গানিকপন্থায় উৎপাদন হচ্ছে যা ঝাঁকে ঝাঁকে ২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে।  অবশ্য ‘উপজাতি’ ‘ নৃ-গোষ্ঠী’  ‘ক্ষুদ্র’ এই শব্দগুলো মনুষ্যমতিষ্ক ফার্মেই উৎপাদন হয়। একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী তার বৃহৎ সংস্কৃতির ক্ষমতায়নের বলেই তৈরি করে ‘উপজাতি’ ‘ নৃ-গোষ্ঠী’  ‘ক্ষুদ্র’ এই শব্দগুলো  এবং প্রয়োগ করে।

যদি আমরা  খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাবো শুধু করোনাকে ইস্যু করে কিন্তু ‘গারো উপজাতি’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে বা হয়েছে তা নয়। এটি আসলে বহুদিনের চলমান চিন্তা আর মননে লালিত প্রক্রিয়া। একটি জাতিগোষ্ঠী কিংবা সম্প্রদায়কে জাতি হিসেবে জেনেবুঝেও কিংবা না জানার অভ্যাসবসে হেয় করার যে প্রবণতা সেটাই করা হয়েছে। এটি মনন ও চেতনবোধের অভাবে কিংবা  আত্মভরিতার দরুণ ‘উপজাতি’ তকমা লাগিয়ে নিজেদের বীরত্ব প্রকাশ করার লক্ষণমাত্র।

আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই, এটা আসলে এই করোনাকালীন সময়েই না  বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নথিপত্রেও উপজাতি তকমাটি পাওয়া যায়। আর এই করোনাকালীন সময়ে একটি প্রতিষ্ঠান আর কতিপয় লোক গারো সম্প্রদায়কে কিংবা জাতি গোষ্ঠীর লোকজনকে সামনে এনে নিজেদের আখেড় গুছিয়ে নিচ্ছে তা স্পষ্ট! যদিও  প্রশ্ন চলে আসে,  গৃহকর্মী কি শুধু গারো সম্প্রদায়ের ভেতরই আছে? কিংবা তারাই করে এই কাজটি? বাংলাদেশের জনসংখ্যার কত পারসেন্ট গারোরা এই কাজ করে? তাহলে শুধু একটি জাতিকে হেয় প্রতিপন্ন করার অধিকার কিংবা সাহস কে দিয়েছে এইসব নামধারী প্রতিষ্ঠানের?

আজকে গারোদেরকে  উপজাতি বানিয়ে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে প্রচার করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি দিতে চান, কাল কাদের দিবেন?  পারবেন ‘বাঙাল কিংবা মুসলমান গৃহকর্মী  ডেলিভারি দিই ২৪ ঘণ্টায়’ ব্যানার ফেস্টুন লিখে প্রচার করতে?

সহযোগিতা করতে চাইলে লেভেল এঁটে কিংবা কোনো জাতি গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে হেয় করে কেন?  আসুন এই করোনাকালে হাস্যরস তৈরি না করে সত্যিকারের মানবিক হই, কাজ করি মানুষের জন্য।

 

কভারের ছবি সংগৃহীত।




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x