Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গারো লোককাহিনি ।।মারিবিদু (লতানো গাছ) ।। মতেন্দ্র মানখিন

প্রকাশিত : জুলাই ২০, ২০২০, ১০:৫৩

গারো লোককাহিনি ।।মারিবিদু (লতানো গাছ) ।। মতেন্দ্র মানখিন

এক গ্রামে একটি পরিবার ছিল। সে পরিবারটি গ্রামে না থেকে বহুদূরে জুম ক্ষেতে ঘর বেঁধে স্বস্ত্রীক বসবাস করত। যে ক্ষেত্রে জুম ক্ষেত প্রতি রাত্রে পাহারা দিতেই হয় তাই ঐ পরিবারের স্বামী-স্ত্রী জুম ক্ষেতেই ঘর করে বাস করছিল। তাদের ধারে কাছে কোনো প্রতিবেশী ছিল না। একদিন ঐ পরিবারের স্বামী তার স্ত্রীকে একা রেখে বহুদূর পথ অতিμম করে বাজারে গেল। সেই দিনে গভীর রাতে ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে খুঁটি বরাবর লম্বা একটি হাত ঐ স্ত্রী লোকটির বিছানায় এগিয়ে এলো আর বলল “আম্বি জাক ব্রিক” অর্থাৎ দাদি আমার হাতটা চুলকিয়ে দাও। নির্জন রাতে কথাটা শুনে স্ত্রীলোকটি ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। হঠাৎ বিরাট মোটা কালো লোমশ হাতখানা দেখে সে চিৎকার করে ভীমরি খেল। কিছুক্ষণ আবার ভালো করে সেই হাত খানা দেখে আরও একবার ভীমরি খেলো। কী করবে কিছু ভেবে না পেয়ে সে হতভম্ব হয়ে হাতটির উপর চেয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তখন আবার একই আব্দার আসতে লাগলো। “আম্বি জাক ব্রিক” দাদি হাতটি চুলকে দাও তা না হলে তোমাকে ছাড়ব না। শেষে উপায়ন্তর না দেখে মনটাকে শক্তকরে চুলকে দেবার জন্য একবার নিজের হাতটা এগিয়ে দিয়ে ভয়ে সে সরিয়ে নিলো। এমনি করতে করতে এক সময়ে সে হাতটা চুলকে দিতে লাগল। বিড়াট লোমশ হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে কখোনো উল্টে-পাল্টে কখনো সোজা করে, আর একটু জোরে কনুয়ের কাছে মণিবন্ধে, নিচে নামা উপরে উঠা ইত্যাদি নির্দেশ তার কাছ থেকে আসতে লাগলো। একটু অন্যমনস্ক হয়ে থেমে গেলেই বলে, “আম্বি জাকব্রিক” কী করবে- সারারাত জেগে সে তারই আদেশ পালন করতে লাগলো। এইভাবে রোজ নির্দিষ্ট সময়ে এসে সে হাত চুলকানোর সুখ ভোগ করতে লাগলো। পালাবার কোন পথ না থাকায় ভয় পাওয়া সত্বেও স্ত্রীলোকটি সহ্য করতে লাগলো। বাজার বহুদুরে অবস্থিত থাকাতে সেখান থেকে ফিরে আসতে তার স্বামীর কয়েকদিন সময় লাগলো। এদিকে ভয়ে অনিদ্রায়, অনাহারে স্ত্রীলোকটির দেহ শীর্ণ হতে লাগলো। অবশেষে একদিন তার স্বামী ফিরে এলো। এসে তার স্ত্রীর চেহারা দেখে জিজ্ঞেস করলো “ কী হয়েছে তোমার অসুখ নাকি? কবে থেকে হলো?” স্ত্রী উত্তরে বলে কোনো অসুখ বিসুখ নয়। তোমার যাওয়ার পর থেকে এই ঘরের বেড়া ফাঁক করে বারবার একটা কালো লোমশ হাত রোজ রাতে এসে আমাকে চুলকে দিতে বলে। না চুলকালে নানা ভয় দেখায়। একটু থেমে থাকতে দেয় না, সারারাত ধরে চুলকাতে বলে। এইভাবে ভয়ে, অনিদ্রায়, অনাহারে আমার দিন কেটেছে। এখন তোমাকে পেয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। স্ত্রীর কথা শুনে খুবই রেগে গেল। সে তার মিলাম (গারো তলোয়ার) ধার দিতে লাগলো। বেলা থাকতে খাওয়া দাওয়া সেরে মিল্লাম নিয়ে খুঁটির কিছু দূরে লুকিয়ে রইলো। সে তার স্ত্রীকে আগেই জানিয়ে রাখলো “হাতটা বাড়িয়ে দিলে তুমি বলবে চুলকাতে অসুবিধা হচ্ছে হাতটা আরও বাড়িয়ে দাও”। রাত বাড়লে সে ফাঁক দিয়ে হাতটা ভেতরে এলো কিছুক্ষণ পর সেই গলা বললে “আজ রাতে কোনো পুরুষ মানুষ কি ঘরে আছে? পুরুষের গন্ধ পাচ্ছি যেন! স্ত্রী লোকটি বললো, কোথায় পুরুষ মানুষ আমি একাই আছি। দেখ ভাল করে চুলকাতে পারছি না তোমার হাতটা আরও একটু বাড়িয়ে দাও ”। সে বগল পর্যন্ত হাতটা বাড়িয়ে দিল। স্বামীটি তৎক্ষনাৎ তার ধারালো মিল্লাম দিয়ে এক কোপ দিলে হাতটা ছিটকে পড়ে গেল। “আইউ, আইউ” আর্তচিৎকার করতে করতে সে পালিয়ে গেল। সকাল বেলা খুঁজতে খুঁজতে দেখা গেলা ক্ষেতের ধারে বিরাট এক “মারিবিদু’’ পড়ে আছে, সেখান থেকে কষ বেড় হচ্ছে। বি. দ্র. মারিবিদু এক প্রকার বন্য লতানো গাছ। এই লতার অলে․কিক শক্তি সম্বন্ধে গারোরা বিশ্বাসী।

 




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost