Thokbirim | logo

৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভ্রমণে বিচিত্র অভিজ্ঞতা- ২ ।। সুমনা চিসিম

প্রকাশিত : জুলাই ০৮, ২০২০, ১২:৩২

ভ্রমণে বিচিত্র অভিজ্ঞতা- ২ ।। সুমনা চিসিম

ঘড়ির ফিতা-২

হোটেলে একটু ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার কি খাব পাগলা’দাকে জিজ্ঞেস করতেই বললো তোমরা বাইরে গিয়ে খেয়ে আসো, আমার জন্য কিছু যা পাও তাই নিয়ে এসো। যা আজ্ঞা তথাস্তু বলে দিংজানের সাথে বাইরে গিয়ে স্ট্রিট ফুড খেয়ে নিলাম আর দাদার জন্য নুডলস। পছন্দসই হলো না যদিও তারপরও এই সেই বলে বলে খেয়ে নিল —!

ক্লান্তিতে কখন ঘুমিয়ে গেলাম তের পেলামনা কিছুই। সকাল সকাল সারাদিনের জন্য রেডি হয়ে নাস্তার টেবিলে–আমরা তিনজনে—!! বুফে বলে কথা–!! কত কি খাবার তার আলাদা কোন বিল হবে না। হোটেল বিলের সাথে নাশতা ফ্রী–!! নাশতার পর সারাদিন কি করবো। ট্রেন রাত ৯ঃ৩০ এ। অনেক সময়। ঘুরাঘুরি করা যাবে–!! না তা হবেনা — বললো পাগলা’দা–!! ১২টার মধ্যেই আমাদের চেক আউট করতে হবে, না হলে আরেকদিনের বিল গচ্চা যাবে–এমনিতেই বেশি হয়ে গেল সবকিছু মিলে –! কেন–! এতক্ষণ কোথায় থাকবো–এতো ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে–!!! স্টেশনে গিয়ে থাকতে হবে আমাদের–!

যা দেখার সাড়ে এগারোটার মধ্যেই দেখে ফিরতে হবে–!! তাহলে কোথাও না গিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দেখে আসি নাকি–!! তাই হলো–!! ভিতরে গিয়ে দেখার ইচ্ছা থাকলেও হলো না। আমি আগেও দেখেছি। শুধু দিংজানের জন্য দেখানোর ইচ্ছা ছিল। বিদেশীদের জন্য আলাদা রেট। প্রতিজনে পাঁচ শত করে–! তাহলে দাঁড়াচ্ছে তিনজনের দেড় হাজার রুপি–!! ফিরে আসার সময় টাকা বাচলে না হয় দেখা যাবে–বলে বাইরে ঘুরাফেরা করেই আসতে হলো–!

অগ্যতা ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে বারোটা নাগাদ চেক আউট হতে হলো–! এখন সাড়ে বারোটা-! দুপুরের খাওয়া সেরেই না হয় যাওয়া যাবে স্টেশনে—-!! এ আরেক বিড়ম্বনা। এ রেস্তোরাঁ ময়লা, তাহলে আরেক রেস্তোরাঁ করতে করতে সময় পার করছি যদিও, তথাপি আমাদের দু’জনের বারোটা বেজে শেষ–!! ব্যাগ ব্যাগেজ আমাদের টানাটানি করতে হচ্ছে। মনে মনে ভাবছি— বড়দের কত সুবিধা আদেশ দিলেই সব হাতের কাছে চলে আসে—!! পরিশেষে অনেক তর্কাতর্কি করে এক রেস্তোরাঁতে খেয়ে নিলাম–!!

এবার হাওড়া স্টেশন –! দুপুর দেড়টার মধ্যে হাওড়া স্টেশনের ওয়েটিং রুমে–! দু’তলায় ওয়েটিং রুম। এসি ছিল বলে রক্ষা –! এটা ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের জন্য–!! অনেক বড় জায়গা নিয়ে আরামে বসে আছি–!! কতো বড় স্টেশন –!! কতো মানুষ আসছে যাচ্ছে তার হিসাব করা দুষ্কর —– এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ পাগলা’দা তাঁর ঘড়ির ফিতা ছিঁড়ে যাওয়া নিয়ে হাহুতাশ শুরু করে দিল–! ঘড়িটা নাকি ছোট বোন লিপি প্যারিস থেকে পাঠিয়েছে –!! ফিতা চামড়ার–! এখন ঘড়ি ছাড়া চলবে না তাঁর –! আমি বললাম পকেটে রাখলেই তো হয়–!! না তা হয় নাকি–!! পরে গেলে–!! আমরা বললাম মোবাইলে দেখা যাবে সময়–!! না সে হবে না–!

বললো– দিংজান তুমি নিচে দোকানগুলোতে সুপার গ্লু পাও কি না–দেখে নিয়ে আসো তো—!! দিংজান সুপার গ্লু খুঁজতে বেড়িয়ে গেছে সেই কখন–! আধ ঘন্টা ধরে কোথায় খুঁজছে কে জানে–!! এদিকে পাগলা’দা টেনশনে টেনশনে আধমরা–!! না পেরে আমাকে বললো যা-ও তো খুঁজে নিয়ে আসো–!! আমি বললাম কোথায় খুঁজবো এতো বড় স্টেশনে–!! ভুল করেছি সিম না নিয়ে। এদিকে সময় যাচ্ছে আর দিংজানের কোন পাত্তা নাই –!! জাদা (বোকা) কোথায় কি করছে, হারিয়ে গেলে আমারই জবাবদিহি করা লাগবে ও জানে–এ-সব??? আমি বললাম তুমি পাঠাইসো তুমি বুঝো এখন–!! এ বলাতে নিজেই বেরিয়ে গেলো–!!

কিছুক্ষণ আশেপাশে খুঁজে না পেয়ে বকতে বকতে ফিরে আসলো–!! চোখে মুখে টেনশন আর টেনশন–! আর সইতে পারছে না–!! আবারও আমাকে তাগাদা দিলো–!! আমি বেলকনিতে গিয়ে বাইরে চোখ রাখছি–!! মানুষের ভীড়ে তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিলামও না–!! হঠাৎ পিছনে পাগলা’দা — তুমি এখনো এখানে–?? আমি তাঁর টেনশন দেখে যাচ্ছি –বলে সামনে এগিয়ে সিঁড়িতে পা দিতেই দিংজানকে উপরে উঠতে দেখলাম–!! ভাগ্যিস ফিরে আসলো–!! না হলে যে কি হতো আমাদের এ ভ্রমণ — সব ধূলায় মিশে যাওয়ার অবস্থা— আর কি–!!

আসা মাত্রই জেরা শুরু –!! বেচারা দিংজান–প্রথম কলকাতায় এসে কি বিড়ম্বনার শিকার –!! তোমাকে কাছাকাছি গিয়ে দেখতে বলেছি আর তুমি কোথায় গিয়ে এত দেরি করলে–!! জানো না তুমি-, ক্রাইম পেট্রল দেখো না–?? এভাবেই কত মানুষ বিপদে পড়ে-? আরে মামা এখানের আশেপাশে কোথাও সুপার গ্লু নেই –!! দূরে গিয়ে তারপরে না পেলাম–!! দেখি কি রকম সুপার গ্লু —!! হাতে সুপার গ্লু নিয়ে ঘড়ির ফিতা জোড়া লাগানোর সে কি চেষ্টা–!! কিছুক্ষণ চলতে লাগলো–!! আর আমি বেচারা এ-সব কান্ডকারখানা দেখতে দেখতে সেই দুপুর থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সময় গড়িয়ে যেতে দেখলাম —-! ফিতা জোড়া লাগলো আপাতত—!! স্বস্তি পেতে না পেতেই আবারও ছুটে গেল—ফিতা!! এবার—দিংজানের অবস্থা আরেক দফারফা–!! কি সুপার গ্লু আনলে তুমি জোড়া লাগেই না?? আমি কি জানি–!!!! সুপার গ্লু চাইলাম দোকানদার যা দিয়েছে তাই নিয়ে আসলাম– আর কি করতাম আমি–!!! আবার বিড়বিড় করতে করতে জোড়া লাগানোর কাজে উঠে পড়ে –গেলো !

অনেক সে অনেক চেষ্টা করে অবশেষে জোড়া লেগেছিল–তাঁর প্রিয় ঘড়ির ফিতা —–!! যাক আমাদের রক্ষা করলে তুমি মিস্টার সুপার গ্লু—–!!!!

(ক্রমশ)




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost