Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কেমন আছেন শহিদ পীরেন স্নালের ছেলে-মেয়ে? ।। জাডিল মৃ

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৩, ২০২০, ১২:০৯

কেমন আছেন শহিদ পীরেন স্নালের ছেলে-মেয়ে? ।। জাডিল মৃ

আজ ৩ জানুয়ারি শহিদ পীরেন স্নালের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। স্যালুট জানাই বীর শহিদ পীরেন স্নালকে! ২০০৪ সালের এই দিনে বনরক্ষীদের  গুলিতে নিহত হন জয়নাগাছা গ্রামের দুই সন্তানের জনক পীরেন স্নাল। এই ষোল বছরে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। অনেকদৃশ্যপটের পরিবর্তন হয়েছে। পীরেন স্নাল বেঁচে থাকলে তাঁর দুই সন্তানের ভাগ্যের চাকা ঘুরতো অন্যদিকে আজ যেদিকে ঘুরছে সেদিকে নিশ্চয়ই নয়। শহিদ পীরেন স্নালের দুই ছেলেমেয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে লিখেছেন জাডিল মৃ। প্রিয় পাঠক আসুন আমরা জাডিল মৃর লেখাটি পড়ি…

১৬ বছর আগের পীরেন স্নালের স্ত্রী-সন্তান। ছবি ডেইলিস্টার

লেখার টাইটেল দেখেই বুঝতে পারছেন, আমি আজকে কাদেরকে নিয়ে বলতে চাই। গত বৃহস্পতিবার গিয়েছিলাম জয়নাগাছা গ্রামে। গ্রামটি শোলাকুড়ী ইউনিয়নে পড়েছে। জয়নাগাছা গ্রাম অনেক বড়, যেহেতু শহিদ পীরেন স্নালের ছেলেমেয়ে কোথায় থাকে জানতাম না, সেহেতু যেতে যেতে চলে যাই পীরেনের বাড়ির সামনে। একটু দূর থেকে দেখে চলে আসি। ভেতরে যাওয়ার সাহস হলো না। কেন জানি, নিজেকে অপরাধী মনে হলো।  এক বড় ভাই-এর মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম বড় ছেলে ঢাকায় কাজ করতে চলে গেছে, ছোট মেয়ে এখনো পড়াশুনা করছে।

অনেক খোঁজা খুঁজির পর আসল ঠিকানায় পৌঁছে গেলাম, গিয়ে শহিদ পীরেন স্নালের শ্বশুর বাড়ির পাশের বাড়ি আম্বির(নানি) সাথে দেখা হলো। আম্বির সাথে অনেক ক্ষণ কথা হলো, যখন জানতে পারলাম, শহিদ পীরেন স্নালের ছেলেমেয়ে কেউ নেই, সবাই ঢাকা চলে গেছে, নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল। যখন আরো জানতে পারলাম মাত্র দুই সপ্তাহ আগে চলে গেছে,নিজেকে আবার অপরাধী মনে হলো!

 দুর্ভাগ্যক্রমে যেহেতেু দেখা হলো না, আম্বির কাছ থেকে জানার চেষ্টা করলাম, আসলে কেন তারা ঢাকায় চলে গেছে। আম্বির কথা শুনে মন আরো খারাপ হয়ে যায়। আম্বি বলতে লাগলো, মেয়েটা এই বার সেভেন এ পড়তো টাকা পয়সার অভাবে ‘পড়ালেখা করতে পারলো না, বড় ছেলেটা অনেক আগেই টাকা পয়সার অভাবে পড়াশুনা বাদ দিয়েছে । তাদেরকে দেখার মতো কেউ নাই। তার মা ছিল অন্য গ্রামে গিয়ে সংসার পেতেছে।

যতদূর শুনেছিলাম, প্রথম দিকে ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু সাহায্য করা হতো, কিন্তু এখন আর করা হয় না। আম্বির মাধ্যমে জানতে পারলাম, তাদের মূল যে সমস্যা দেখার মতো কেউ নেই এবং টাকা পয়সার কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। শহিদ পীরেন স্নালের বড় ছেলের নাম উৎস নকরেক এবং মেয়ের নাম রাত্রি(রাততি) নকরেক। শহিদ পীরেন স্নাল ইকোপার্ক বিরুদ্ধী আনন্দোলনে শহীদ হন ২০০৪ সালের ৩রা জানুয়ারি।

 যখন ফিরছি তখন আমার মনে বার বার প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল- শহিদ পীরেন স্নাল আমাদের জন্য জীবন দিলেন, আমরা উনার সন্তানের জন্য কী দিলাম? কী দিতে পারলাম?

অনেক প্রশ্ন… অনেক অনেক প্রশ্ন…




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost