Thokbirim | logo

১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রভুর সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত হয়ে থেকো।। ফাদার গৌরব জি. পাথাং, সিএসসি

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০১, ২০১৯, ২১:৫০

প্রভুর সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত হয়ে থেকো।। ফাদার গৌরব জি. পাথাং, সিএসসি

আজ আগমনকালের ১ম রোববার। আগমনকালে আমরা ধ্যান যিশুর দ্বিবিধ আগমনের কথা। সাধু বার্নাড বলেন, “তোমাদের ধ্যানের বিষয় হোক  খ্রিষ্টের দ্বিবিধ আমগন; তাঁর প্রথম আগমনে তিনি যে কী দান করলেন ও দ্বিতীয় আগমনের জন্য যে কী প্রতিশ্রুত হয়েছেন, তা নিয়েই চিন্তামগগ্ন থাকো।”তিনি আরো বলেন, তোমার প্রভুর সেই প্রথম আগমনেরই কথা শুধু ধ্যান করো না, যখন তিনি হারানো যত কিছু খোঁজ করতে ও ত্রাণ করতে জগতে প্রবেশ করলেন, বরং তাঁর সেই দ্বিতীয় আগমনের কথাও ধ্যান কর, যখন তিনি নিজের সঙ্গে চিরকালের মত আমাদের মিলিত করতে আগমন করবেন।”আজকের মঙ্গলসমাচারে যিশু আমাদের তার আগমনের নিশ্চয়তা দান করে। তিনি আসবেন কিন্তু কোন প্রহরে আসবেন তা অনিশ্চিত।

প্রস্তুত থেকো ও জেগে থাকো : যিশুর আগমন নিশ্চিত কিন্তু অজানা। কখন আসবেন আমাদের জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি বলছেন, আমরা যেন প্রস্তুত থাকি ও জেগে থাকি। যখন খ্রিষ্ট-শক্রু শয়তান মানবরূপে আসবে, তখন দুর্জন  ও পরিত্রাণের প্রতি যাদের আগ্রহ নেই, তারা আরো ইন্দ্রিয়পরায়ণ হবে, রিপুর দ্বারা পরিচালিত হবে। নোয়ার দিনটিতে যেমন ইন্দ্রিয় দ্বারা চালিত লোকেরা নোয়ার সেই নৌকায় গিয়ে না উঠা পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া, বিয়ে করা-বিয়ে দেওয়া সবই করে যাচ্ছিল, তেমনি যারা পরিত্রাণ বিষয়ে অনাগ্রহী, উদাসীন, যারা জাগতিকতার মধ্যে ডুবে থাকবে তারাও যিশুর সেই পরিত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবে।

তাই আমাদের প্রস্তুত ও জেগে থাকতে হবে। প্রবক্তা আমোস বলেন, “হে ইস্রায়েল, তোমরা ঈশ্বরের সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত হয়ে থেকো। ”  যখন তিনি তোমার হৃদয়-দুয়ারে ঘা দেন, তখনই যে তার জন্য তোমার হৃদয় দুয়ার খুলে দেবে তা নয়, বরং তিনি দূরে থাকলেও তার সঙ্গে আনন্দমনে সাক্ষাৎ করতে যেও। যে কোন মঙ্গলকাজ করতে প্রস্তুত থেকো। দ্বিতীয় পাঠে সাধু পল বলছেন, “এখন তো তোমাদের ঘুম থেকে জেগে ওঠারই সময়! কেননা সেই যেদিন আমরা খ্রিষ্টে প্রথম বিশ্বাস করেছিলাম, তখনকার চেয়ে আমাদের পরিত্রাণের সময় এখন কাছেই এসে গেছে।”

পরিত্রাণের জন্য ব্যক্তিগত সাধনার প্রয়োজন: আমার পরিত্রাণের জন্য আমাকেই সাধনা করতে হবে। পরিবার, সমাজ ও ম-লী আমার পরিত্রাণে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে কিন্তু পরিত্রাণের জন্য নিজেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। মৃত্যুর আমার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, ধন সম্পদ কোনটাই সঙ্গে যাবে না। এগুলো আমার পরিত্রাণ নিশ্চিত করতে পারে না। যীশু বলেন, “মানবপুত্রের সেই মহা আগমনের সময়েও ঠিক তেমনই পরিস্থিতি দেখা দেবে। সেদিন মাঠে দু’জন লোক যেখানে থাকবে, সেখান থেকে একজনকেই নিয়ে যাওয়া হবে, আর একজনকে ফেলেই যাওয়া হবে। যেখানে দু’জন স্ত্রীলোক জাঁতা ভাঙছে, সেখান থেকে একজনকে নিয়ে যাওয়া হবে, আর একজনকে ফেলেই যাওয়া হবে।” তাই পরিত্রাণ জন্য আমাদের সাধনা করতে হবে। আমাদেরকে অন্ধকারের কাজকর্ম পরিত্যাগ করতে হবে, বেসামাল ভোজ-উৎসব, মাতলামি, যৌন দুরাচার বা উচ্ছৃঙ্খলতা, বিবাদ, ঈর্ষা পরিত্যাগ করতে হবে। নববেশরূপে খ্রীষ্টকে পরিধান করতে হবে। তাকে বরণ করতে হবে।

অলস হয়ে থেকো না: যারা আধ্যাত্মিকভাবে অলস তাদের সতর্ক করিয়ে দিচ্ছেন। যারা জাগতিক ভোগ বিলাসীতা, খাওয়া-দাওয়া, বিয়ে করা কিংবা চোরের হাত থেকে ধনসম্পত্তি রক্ষা করার জন্য ব্যতী ব্যস্ত, পরিশ্রম করে, জেগে থাকে, প্রস্তুত থাকে। কিন্তু আত্মাকে মন্দতা ও শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, স্বর্গীয় আনন্দ লাভের জন্য, প্রভুর সান্নিধ্য লাভের জন্য পরিশ্রম করে না, সাধনা করে না, উদাসীন, অনাগ্রহী তাদেরকে প্রভু সাবধান করে দিচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে প্রভুর দেওয়া অমূল্য দান শাশ^ত জীবন কেড়ে নেওয়া হবে, বঞ্চিত করা হবে।

আগমন কাল প্রতীক্ষার কাল: আগমন কাল প্রতীক্ষার কাল। আমরা প্রভু যিশুর আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছি। তাই আমরা গান করি, “আমরা আছি বিপুল আশায়/আসিবেন মহারাজা মহামহিমায়।” আজ ঈশ্বর আমাদেরকে আহ্বান করছেন আমরা যেন যীশুর জন্য পথ প্রস্তুত করি, অন্তরে কুটিলতা, আঁকা বাঁকা পথ সোজা সরল করি, যেন আমাদের মধ্যে, আমাদের অন্তরে, আমাদের পরিবারে, সমাজে তিনি আসতে পারেন, জন্মগ্রহণ করতে পারেন। আমরা যেন তাঁকে আমাদের অন্তরে, হৃদয় গোশালায় গ্রহণ করতে পারি ও বরণ করতে পারি।




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x