Thokbirim | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কালের বিবর্তনে বিবর্তিত নব যুগের “ঢাকা ওয়ানগালা”।। তেনুস. এস. সাংমা

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০১, ২০১৯, ১৮:০৮

কালের বিবর্তনে বিবর্তিত নব যুগের “ঢাকা ওয়ানগালা”।। তেনুস. এস. সাংমা

অক্টোবর-নভেম্বর মাস মানেই গারো কৃষ্টি সংস্কৃতি ধারক বাহক মানুষদের মনে প্রাণে শিহরণ জেগে থাকে ওয়ানগালা উৎসব উদযাপনের দিনক্ষণ নিয়ে। কোথায় কখন, কোন নকমা কত তারিখে, তাদের এ প্রাণের উৎসবটি আয়োজন করা হচ্ছে। তাই তারা নিজে নিজেরাই নিজেদের মাঝে আলাপ আলোচনা যেনো যার তার মনের তাগিদেই খোঁজ খবরা রাখতে থাকেন। সেই একই কারণে ওয়ানগালা আয়োজকেরাও বিশেষ সেই সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। আয়োজক কমিটিরাও সে ক্ষেত্রে ওয়ানগালা অনুষ্ঠান করার জন্যে বিশেষ কোনো ঢাকঢোল পিটিয়ে কিংবা রঙ বেরঙের লিফলেট পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার প্রচারণারও প্রয়োজন পড়েই না।


হাজার হাজার মানুষের সমাগম এমনিতেই হয়ে যায়। তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এ যেনো কৃষ্টি ও সংস্কৃতির টানে, জাতিগত সংস্কৃতির আকর্ষণে না হয়তোবা সেই গারো দেবতা তাতারা, রা’বুগা, মিসি সালজং, রাক্কাসী, গয়রা নামক ‘চৈতন্য’ দেব ও দেবতার মহা আকর্ষণেই ঢাকাবাসী গারোরা হাজার হাজার মানুষ আবাল বৃদ্ধ বণিতা, শিশু কিশোর কিশোরীদের মহা সমাগম ওয়ানগালার প্রাঙ্গণে মুখরিত করে তুলে-!

কেউবা আসে সংস্কৃতির টানে, কেউবা আসে সেরেনজিং, আজিয়া দুরুয়া, গ্রিক’আ আরো সাম্প্রতিক জনপ্রিয় গারো ব্যান্ড সঙ্গীতের জমকালো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে। কেউবা আসে পুরোনো বন্ধু বান্ধবদের দেখা সাক্ষাৎ পাবার আশায়, কিশোর কিশোরীদের ডেটিং, চেটিংয়ের মাঝে সরাসরি সাক্ষাৎকারে। আর কেউবা আসে পাহাড়ি শাক শসবজি তথা, মি’চেঙ, মধু বিবাল, আক্কাড়ু, মিগারু, তাবুলচু, তা’রিং, তা’মা, মেন্ডা-গাল্ডা, চি’জঙ, চেপ্পা কুৎচিয়া শোপ্পুরু, না’খাম কেনার আশায়। আর মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাঝে থাকে গলাকাটা ব্যবসা বানিজ্যের ধান্দায়। দকমান্দা, দকসাড়ি, বেচাকেনার মহড়ায়। নাখাম খারি,ওয়াক খারি, কুৎচিয়া গ্রান খারি, ভিখা, চেলচিক, ফাসিম খারি, গিম্মিন খারি ইত্যাদি বাহারি সব খাবার দাবার পসরা সাজিয়ে আয়োজন হয়ে উঠে ওয়ানগালার জমজমাট একই অনুষ্ঠানে।

অথচ; কোনো মহান জাতীয় নেতা নেত্রীর জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ঔদ্ধত্য আহবানেও কিংবা কোন অনুষ্ঠানাদীতে গারোরা ব্যক্তিগত যোগাযোগ করেও এবং শত নিমন্ত্রণ আমন্ত্রণে পত্র দিয়েও এত মানুষের সমাগম ঘটাতে পারে না। পক্ষান্তরে এটাও যেনো গারোদের জাতিগত বৈশিষ্ট্যের আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় এবং এটাই গারোদের জাতীয় কুড়া রোগ।

যাই হোক, সম্ভবত বছরের সর্বশেষ ঢাকাবাসী গারোদের প্রাণের উৎসব এটি। “ঢাকা ওয়ানগালা” মহা সমারোহে উদযাপিত হতে যাচ্ছে আগামী ৫-৬ ডিসেম্বর ২০১৯, স্থান লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে। ইতোমধ্যে ঢাকাবাসী গারোদের আরো দুটি সফল ওয়ানগালানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বনানীতে। এর ব্যতিক্রম তেমন কিছুই হবে না কিংবা দেখা যাবে না এ ওয়ানগালাতেও।

ব্যতিক্রম সেটা আশা করি না, করতে পারি না। কারো করাটাও উচিত হবে না। কারণ যেদিন গেছে সেদিন আর ফিরে আসবে না আমাদের মাঝে; কিংবা আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতির বিবর্তনে। যুগ ও কালের বিবর্তন সবাইকে মানতেই হবে। এই বিবর্তন প্রাকৃতিক তার আপন প্রয়োজনে মানুষ কেবল প্রকৃতির গতির অনুসারী। তাই গণ মানুষের নব চেতনায় উদ্বুদ্ধে নব প্রাণের ওয়ানগালা উৎসবে যোগদানে আমরা ঢাকাবাসী অপেক্ষায় রয়েছি সকলে এক কাতারে সামিল হতে!

লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহ। ছবি : থকবিরিম গ্যালারি, ওয়ানগালা ফেসবুক পেজ থেকে সংগ্রহ।




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost