Thokbirim | logo

২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গ্রামে মাত্র পাঁচটি গারো পরিবার।। জাডিল মৃ

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৪, ২০১৯, ১০:৫০

গ্রামে মাত্র পাঁচটি গারো পরিবার।। জাডিল মৃ

আ’বিমার(মধুপুরে) একটি মাত্র গারো পরিবার দেখতে সকালবেলা নাস্তা খেয়ে বের হলাম।শুনেছি, সেখানে একটি পরিবার ছাড়া কোন পরিবার নেই, কি অদ্ভুত তাই না? অনেকদিন যাবো যাবো বলে যাওয়া হইনি,এবার গিয়েছি।তবে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে।হতাশার মাঝেও কিছু আনন্দ ছিল।কারণ গন্তব্যের জায়গাতে যেতে না পারলেও অনেক দিন পর দ্বিতীয় বারের মতো আরেকটি গারো গ্রামে ঘুরে আসলাম।গারো গ্রাম শুনলেই ভালো লাগে তাই না!হ্যাঁ,আমারো শুনতে ভালো লাগে। তবে যখন শুনি এবং প্রত্যক্ষ করি গারো গ্রাম আস্তে আস্তে বিলুপ্তি হচ্ছে ;হারিয়ে যাচ্ছে, গ্রামে গ্রামে গারো শূণ্য হয়ে যাচ্ছে,তখন খুবই কষ্ট হয়।বাস্তবতার মধ্যে আটকে থাকি…

গারো জাতিগোষ্ঠীর কথা কিংবা আদিবাসীদের প্রসঙ্গ উঠলেই প্রতিটা বক্তব্যে কিংবা কোন আলোচনা সভায় প্রতিবার বলতে শুনি আমাদের ভাষা,সংস্কৃতি,ঐহিত্য,আদি নিয়ম,গারো আইন প্রয়োগ,ধর্ম,পড়াশুনা,বিসিএস,চাকরি…অমুক সমুক কত কি শুনতে হয়।আজ যারা নেতৃত্ব পর্যায়ে আছে কাউকে বলতে শুনি না যে আমাদের প্রথমে গ্রাম গুলোকে রক্ষা করতে হবে, তারপর না হয় অন্য কিছু!তাই তো,গ্রামগুলোই যদি না থাকে যতই মুখের ফেনা বের করি না কেন, কি হবে?কিছু হবে ভাবছো!জাডিল(শেকড়) যদি ঠিক না থাকে, গাছের লতাপাতা, ফল,ফুল কিংবা ডালপালা ঠিক থাকবে তো?

খামারিয়া গ্রাম..

খামারিয়া গ্রামটি অবস্থিত, ১নং দুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ, মুক্তাগাছা উপজেলা,ময়মনসিংহ জেলায়।
এই গ্রামটি অন্যান্য আ’বিমা(মধুপুর) গারো গ্রাম থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত। শোনা যায়,অনেকদিন আগে আশেপাশে অনেক গারো পরিবার ছিল এবং গারোদের বসবাস ছিল।কিন্তুু বাস্তবতা আজকে পাঁচটি পরিবারে দাঁড় করিয়েছে।আরো একটি পরিবার চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।হয়তো চলেও যাবে,সময়ে স্রোত কোন দিকে যায় কে জানে!

খামারিয়া গ্রামে গারো পাঁচটি পরিবার যেখানে আছে, সেখানে স্বর্গের মতো মনে হবে।কেন না বাড়িটির চারিদিকে ধানক্ষেত একপাশে রাস্তা মনে হবে একটি দ্বীপের মধ্যে পরিবার গুলো বসবাস করছে।
সেখানে মূলত রিছিল, চিরান, চাম্বুগং পরিবার রয়েছে।পাঁচটি পরিবারে লোকজন গ্রামে এখন অবস্থান করছে ২২/২৫ জন এবং ঢাকা শহরে আছে দশ থেকে বারো জন।

এই ছোট গারো গ্রাম কিংবা পাঁচটি পরিবার এখনো টিকে আছে স্বগর্বে।জানি না, কতদিন টিকে থাকবে,কত দিন লড়াই করতে থাকবে…




সম্পাদক : মিঠুন রাকসাম

উপদেষ্টা : মতেন্দ্র মানখিন, থিওফিল নকরেক

যোগাযোগ:  ১৯ মণিপুরিপাড়া, সংসদ এভিনিউ ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। 01787161281, 01575090829

thokbirim281@gmail.com

 

থকবিরিমে প্রকাশিত কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। Copyright 2020 © Thokbirim.com.

Design by Raytahost
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x